2026-10-16
--°C Purulia
বাং
ডার্ক মোড
হোম পুরুলিয়া জাতীয় স্তরে লাক্ষা হাব পুরুলিয়া! বাড়বে চাষ, কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সম্ভাবনা
পুরুলিয়া

জাতীয় স্তরে লাক্ষা হাব পুরুলিয়া! বাড়বে চাষ, কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সম্ভাবনা

Avatar of Newsvoiceofpurulia
Newsvoiceofpurulia
17 August 2026, 12:00 AM 41 ভিউ 1 মিনিট পড়ুন
জাতীয় স্তরে লাক্ষা হাব পুরুলিয়া! বাড়বে চাষ, কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সম্ভাবনা
ফাইল চিত্র: Purulia, Purulia - II, West Bengal, India
পুরুলিয়া: পুরুলিয়াকে জাতীয় স্তরে লাক্ষা উৎপাদন ও রপ্তানির হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্র সরকার। জেলার ঐতিহ্যবাহী লাক্ষা শিল্প জিআই (Geographical Indication) স্বীকৃতি পাওয়ার পর এই উদ্যোগকে ঘিরে নতুন আশার আলো দেখছেন লাক্ষা চাষি, সংগ্রাহক, কারিগর ও ব্যবসায়ীরা। দক্ষতা বৃদ্ধি, বাজারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং উৎপাদন বাড়ানো গেলে লাক্ষা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বহু পরিবারের আয় ও কর্মসংস্থান বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পত্রিকা সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি লোকসভায় বাণিজ্য ও শিল্প প্রতিমন্ত্রী জিতিন প্রসাদ পুরুলিয়ার লাক্ষা শিল্পকে ঘিরে কেন্দ্রের পরিকল্পনার কথা জানান। এরপরই জেলায় লাক্ষা চাষ ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মহলে উৎসাহ তৈরি হয়েছে।
একসময় পুরুলিয়ার বলরামপুর, বাঘমুন্ডি-সহ বিভিন্ন এলাকায় লাক্ষা শিল্প ছিল গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। ব্যবসায়ীদের স্মৃতিচারণায় উঠে আসছে সেই সময়ের ছবিও। তাঁদের দাবি, একসময় প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলেই বিভিন্ন কুটির শিল্পকেন্দ্র থেকে কাজ শেষ করে ৪০০ থেকে ৫০০ জন পর্যন্ত শ্রমিক বেরিয়ে আসতেন। এরপর তাঁরা বলরামপুর বাজারে বিভিন্ন কেনাকাটা করতেন। ফলে সন্ধ্যার পর বলরামপুর বাজারে তৈরি হত আলাদা এক কর্মচঞ্চল পরিবেশ। লাক্ষা শিল্পকে ঘিরে শুধু কারিগর বা শ্রমিকরাই নন, বাজারের ছোট-বড় বহু ব্যবসায়ীও উপকৃত হতেন।
তবে ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, সেই পুরনো ছবি এখন আর দেখা যায় না। আগের তুলনায় লাক্ষা উৎপাদন অনেকটাই কমেছে। পাশাপাশি কাঁচামালের সংকটও রয়েছে। ফলে লাক্ষা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বহু পরিবার আগের মতো কাজের সুযোগ পাচ্ছেন না। একসময়ের জমজমাট বাজারও অনেকটাই ম্লান হয়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।
তাঁদের আশা, পুরুলিয়াকে জাতীয় স্তরে লাক্ষা উৎপাদন ও রপ্তানির হাব হিসেবে গড়ে তোলা হলে এই শিল্পে ফের নতুন প্রাণ আসতে পারে। লাক্ষা থেকে তৈরি অলঙ্কার, হস্তশিল্প, প্রসাধনী, প্রাকৃতিক রং এবং বিভিন্ন শিল্পজাত পণ্যের বাজারও সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একইসঙ্গে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে কর্মসংস্থান বাড়লে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে লাক্ষা চাষে কাঁচামালের জোগান বাড়ানো, চাষিদের প্রশিক্ষণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং উপযুক্ত বাজার তৈরি করার দিকে সরকারকে দ্রুত নজর দিতে হবে—এমনই দাবি লাক্ষা ব্যবসায়ী মহলের।
পুরুলিয়ার লাক্ষা শিল্পের সেই পুরনো জৌলুস কি আবার ফিরবে? এখন সেই প্রশ্নের উত্তরই খুঁজছেন চাষি থেকে ব্যবসায়ী—সকলেই।

মন্তব্যসমূহ (0)

Replying...

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...

× Fullscreen Image